সারাদেশ

সদরপুরে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থীর ১০ টাকায় ইলিশ দেওয়ার সময় হুলস্থুল কান্ড

  প্রতিনিধি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ২:৪৮:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

সদরপুর উপজেলা (ফরিদপুর) সংবাদদাতাঃ

ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মুফতী রায়হান জামিল সদরপুরে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ১০ টাকায় ১ টি করে ইলিশ দেওয়ার সময় হুলস্থূল কান্ড ঘটে। তিনি সঙ্গে করে মাত্র ৪ মণ ইলিশ মাছ এনেছিলেন যা অল্পকিছু মানুষের মধ্যে বিতরণ করা সম্ভব হয়। বাকি উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষ কাঙ্খিত ইলিশ নিতে না পেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে করতে বাড়ি ফিরে যায়। ইলিশ না পাওয়া এক নারীকে এমপি প্রার্থীর গাড়ি লক্ষ্যকরে বলতে শোনা যায়, ইলিশ দিতে চাইছ, ইলিশ দিয়া যাইবা নইলে যাইতে দিমু না। নুরুল ইসলাম নামে জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ইলিশ মাছ দিবে বলে মাইকিং করা হয়েছিল, সংগে করে আইডি কার্ডের ফটো কপি ও ১০ টাকা করে আনতে বলেছিল। দীর্ঘ ভোগান্তির পর ইলিশ মাছ না নিয়ে যেতে পারা দুঃখজনক।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ইলিশ বিতরণ করতে আসা ফরিদপুর ৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ১০ টাকায় ইলিশ দেব এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক টোকেন দিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে এসে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখতে পাই। একসময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪ মণ ইলিশ সঙ্গে করে এনেছিলেন যা মূহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে সদরপুর বিশ্বজাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। গত তিনদিন ধরে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিলের পক্ষে মাইকযোগে প্রচারণা চালান হয় যে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ১০ টাকায় ১ টি ইলিশ দেয়া হবে। সেই মতে আজ সকাল হতেই উক্ত স্কুল মাঠে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়।

এই ইলিশ বিতরণকে কেন্দ্র করে বিশ্বজাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ হয়। প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এ প্রতিবেদককে জানান, এমপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমাকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। তিনি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি। এই মূহুর্তে কয়েক হাজার লোক স্কুলভবন ঘিরে রেখেছে, ক্লাস নিতে পারছিনা, প্রশাসনিক কাজও করতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে সদরপুর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, উনার ( এমপি প্রার্থীর) ক্লাস চলাকালীন সময়ে করার কথা ছিল না। এবং পর্যাপ্ত লোকবল ও আইনশৃংখলা বাহিনী উপস্থিত করার কথা বলা হয়েছিল।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায় জানিয়েছেন, আগে থেকেই এই ধরণের কর্মসূচীর আয়োজন না করার জন্য বলা হয়েছিল। প্রশাসনকে উপেক্ষা করেই ইলিশ বিতরণ শুরু করা হলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক অবস্থায় চলে যায়। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও খবর

Sponsered content