সারাদেশ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে কনকনে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা

  প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:১২:২১ প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাড়কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশাকে জয় করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পেঁয়াজের চারা রোপণে উৎসব মুখর সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো ফলনের আশায় সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হচ্ছে এই অঞ্চলে।

মাঠে মাঠে কর্মচাঞ্চল্য—
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীতের সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজের চারা (হালি পেঁয়াজ) লাগাচ্ছেন। শুধু মুকসুদপুরই নয়, পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলাতেও ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। এই অঞ্চলের পেঁয়াজ সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

চাষাবাদের ধরণ ও লক্ষ্যমাত্রা—
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান— উপজেলার পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় তিন ধরণের পেঁয়াজ চাষ হয়।

গুটি পেঁয়াজ: অক্টোবরের শেষে রোপণ করে জানুয়ারিতেই ঘরে তোলা যায়।
হালি পেঁয়াজ: নভেম্বর-ডিসেম্বরে চারা রোপণ করা হয়, যা এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়।
বীজ পেঁয়াজ: প্রতি বছর ১০-১৫ হেক্টর জমিতে বীজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে পেঁয়াজ রোপণ করা হয়।

কৃষি কর্মকর্তার মতে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে প্রতি বিঘা (৫২ শতক) জমি থেকে ১২৩ থেকে ১৫০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব। গত বছর ২ হাজার ৯০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এবার কৃষকরা তার চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ করছেন।

কৃষকের চাওয়া ও সমস্যা—
টেংরাখোলা গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক আকরাম শরীফ জানান—সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার যদি সারে ভর্তুকি দেয় বা উপকরণের দাম কমায়, তবে আমরা কৃষকরা আরও লাভবান হতাম।

কৃষি বিভাগ আশা করছে, উপযুক্ত তদারকি এবং আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মুকসুদপুর উপজেলা পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এবং দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আরও খবর

Sponsered content