সারাদেশ

শ্রীপুরে ঝুঁকিপূর্ণ সেরের খাল সেতু, সংস্কারে নেই কোন উদ্যোগ

  প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:২১:২০ প্রিন্ট সংস্করণ

মোঃ নাজিম উদ্দিন শ্রীপুর (গাজীপুর):

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কের সেরের খালের ওপর সেতুটি দীর্ঘদিন যাবত সংষ্কার না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে হেগরা পটকা এবং বাউনি গ্রামের শতাধিক মানুষ যাতায়াত করে। ছোট, বড় যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি দুলতে থাকে। দুই গ্রামের স্কুল ও কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের নিচের ওয়াল ভেঙ্গে ইটগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেরের খাল পুণঃখননের পর বর্ষার পানির স্রোতে সেতুর নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইট ও মাটি সরে যায়। এরপরও সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দারা চলাচল করছেন।

পটকা গ্রামের ফিরোজ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীরা সেতু পেরিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বিভিন্ন পোশাক কারখানার কর্মজীবী শ্রমিক এবং গ্রামাবাসী এই সেতু পার হয়ে জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করছেন।

পটকা গ্রামের শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে সেতুটি পারাপার করতে গিয়ে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহত হচ্ছেন পথচারীরা। আর শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে অভিভাবকেরা দুশ্চিন্তায় থাকেন। তারা সেতু দ্রুত মেরামতের আহ্বান জানান।

পটকা দাখিল মাদ্রাসার ডেমোনেস্টেটর রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে গ্রামের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য ধান, চালসহ বিভিন্ন শস্য রিকশা-ভ্যানে করে সেতু পার হয়ে গোসিংগা কর্ণপুর, শ্রীপুর এবং বাউনি হাটে নিয়ে বিক্রি করতো। বর্তমানে সেতুর বেশ কিছু অংশ ভেঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখন রিকশা, ভ্যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পায়ে হেঁটে যাতায়াতও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

বাউনী বাজারের মুদি দোকানি আব্দুল জব্বার বলেন, সপ্তাহে শুক্র, রবি এবং বুধবার তিনদিন হাট বসে। আশপাশের দুই গ্রামের মানুষ সেরের খালের সেতু পেরিয়ে আগে হাটে আসতেন এবং মালামাল নিয়ে যেতেন। এখন সেতু দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে চায় না, হেঁটে যাওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এখন মানুষজন বাজারে কম আসায় আমরাও (ব্যবসায়ীরা) ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা অটোরিকশা চালক আব্দুর রশিদ বলেন, প্রতিবার সেতু পার হওয়ার সময় মনে হয় দেবে যায়। বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়।

গোসিংগা এলাকার ড্রাম ট্রাক চালক মফিজ উদ্দিন বলেন, বালু ভর্তি ট্রাক নিয়ে আমি একদিন কবির প্রধান সড়ক দিয়ে বাউনী যাচ্ছিলাম। সেতুর এই অবস্থা দেখে ফিরে আসে হয়েছে। পরে ৫ কিলো মিটার দূরে বিকল্প সড়ক দিয়ে আমাকে যেতে হয়েছে। আবার ঘুরে চলে এসেছি।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দুই গ্রামের যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৮৮ সালে পটকা থেকে বাউনী বাজার অভিমুখী বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কে নির্মাণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সেতুটিকে সেরের খাল সেতু বলেন। এই সেতুর উত্তরে পটকা এবং দক্ষিণে বাউনী গ্রাম। শুধু ইট দিয়ে সেতুর পিলার তৈরি করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় অতি বর্ষনে পানির স্রোতের কারণে সেতুর নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইট ও মাটি সরে যায়। এরপর থেকেই সেতুর নিচে ফাটল দেখা দেয়। যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরেনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।

গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক আহমেদ বলেন, সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ সেতু পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবও পাঠিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু কেন এবং কি কারণে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে না বলতে পারছি না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সেরার খালের ওপর নির্মিত সেতুটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার বিষয়টি আমাদের নলেজে আছে। গত বছর ইস্টিমেট দিয়েছিলাম। কিন্তু ফান্ডের জন্য অনুমোদন দেয় নাই। চলতি বছর গত দুই আগেও ইস্টিমেট দিয়েছি, এখনো অনুমোদন পাইনি। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করবো। আপাতত সেতুর উভয় পাশে সংযোগস্থলে অস্থায়ীভাবে দুটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে

আরও খবর

Sponsered content