খুলনা

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী বোটসহ সকল নৌযান ধর্মঘট

  প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:২৮:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ

‎সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় ৪০০ জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশে দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

‎যশোর থেকে আসা সাজেদ রহমান বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি।

‎গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
‎দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কী করব আর, ফিরে যেতে হবে এখন।

‎খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এক বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সব নৌযান চলাচল বন্ধ। আসাটাই হলো বৃথা।’

‎মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) হয়রানির প্রতিবাদে সব নৌযান মালিকরা নিজ নিজ থেকে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছেন।

‎ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪০০ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার।
‎সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনো নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। শুনেছি নৌপরিবহন অধিদপ্তর রবিবার পর্যটনবাহী নৌযানগুলো অভিযান চালায়। এই কারণে নৌযান মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’

‎নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে।

‎যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, দুর্ঘটনাকবলিত না হয়। মূলত আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
‎গতকাল রবিবার নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে সকল মালামাল নিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকেরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও খবর

Sponsered content