আন্তর্জাতিক

আজ ফেলানি হত্যা দিবস, বিচার না পেয়ে পরিবারের লোকজন হতাশ

  প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:০৫:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রামঃ

২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি আজকের এই দিনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে কিশোরী ফেলানিকে। আজ ফেলানি হত্যা দিবস। দীর্ঘ ১৫ বছর পার হলেও এখনো বিচার না পেয়ে ফেলানির পরিবার হতাশা প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের নূরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে ভারতের বঙ্গাইগাও এলাকায় বসবাস করতো। নূরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে নিজ দেশে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া টপকিয়ে আসতে হবে তাদের। ৭জানুয়ারী শুক্রবার। ভোর ৬টা ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকানোর চেষ্টা করতে গেলে ভারতীয় বিএসএফ’র গুলিতে বিদ্ধ হয় ফেলানি। গুলিবিদ্ধ হয়ে আধাঘন্টা ধরে ছটফট করে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় কিশোরী ফেলানীর। এর পর সকাল পৌনে ৭টার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতাঁরে ঝুলে থাকে দীর্ঘ সাড়ে ৪ঘন্টা। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগষ্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। বিএসএফ এর এ কোর্টে স্বাক্ষীদেন ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ও মামা হানিফ। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয় বিএসএফ এর বিশেষ কোর্ট। পরে রায় প্রত্যাক্ষান করে পুন:বিচারের দাবী জানায় ফেলানীর বাবা। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পূর্ন:বিচার শুরু হলে ১৭ নভেম্বর আবারও আদালতে স্বাক্ষ্য দেন ফেলানীর বাবা। ২০১৫ সালের ০২ জুলাই এ আদালত পুনঃরায় আত্মস্বীকৃত আসামী অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়। রায়ের পরে একই বছর ১৪ জুলাই ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষামঞ্চ (মাসুম) ফেলানীর বাবার পক্ষে দেশটির সুপ্রীম কোর্টে রিট পিটিশন করে। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিট শুনানী শুরু হয়। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে কয়েক দফা শুনানী পিছিয়ে যায়। পরে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ করোনা শুরুর আগে শুনানীর দিন ধার্য হলেও শুনানী হয়নি এখনো। এদিকে মেয়ের হত্যাকারীর বিচার না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ফেলানীর বাবা-মা।

ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম জানান, ফেলানী হত্যার বিচার আজও না পেয়ে আমরা হতাশ। ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করে তার কন্যার যেন বিচার হয়।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. ফখরুল ইসলাম, ফেলানী হত্যার বিচার ভারতের আন্তরিকতার অভাবে হচ্ছে না। বিচারটা হলে সীমান্ত হত্যা কমে আসতো। ভারতের উচিৎ ফেলানী হত্যার বিচার ঝুলিয়ে না রাখা।

আইন সালিশ কেন্দ্রের জেলা আহবায়ক রাজু মোস্তাফিজ জানান, ফেলানী হত্যার আজও বিচার না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ফেলানীর বাবা মা সাথে সারা দেশের মানুষ।

আরও খবর

Sponsered content