চাকরি-বাকরি

গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত শ্রীপুর থানার মতিউর রহমান

  প্রতিনিধি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২০:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

মোঃ নাজিম উদ্দিন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

গাজীপুরের শ্রীপুরে গজারি বন থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে গাজীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ সভায় তার হাতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার সম্মাননা হিসেবে নগদ অর্থ ও ক্রেস্ট তুলে দেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফ উদ্দীন।এসময় গাজীপুর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজায়, গত ডিসেম্বরে শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পাচুলটিয়া (গুপ্তবাইদ) এলাকার একটি গজারি বাগান থেকে এক অজ্ঞাত নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটির মুখ বোরকার কাপড় দিয়ে আগুনে পোড়ানো, গলায় ওড়না পেঁচানো, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং ডান পায়ের মাংস শিয়ালে খাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এসআই মতিউর রহমান প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা কৌশল প্রয়োগ করে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করেন। নিহত নারী হলেন সুমা আক্তার (২৫)। তিনি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার কচুয়ারচর গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া (ফখরুদ্দিন মোড়) এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে বৈরাগীরচালা এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।

তদন্তে উঠে আসে, একই কারখানায় কর্মরত রাসেল (২৪)-এর সঙ্গে সুমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কের পর সুমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন এবং রাসেলকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু রাসেল সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।পরে গত ৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাসেল সুমাকে বিয়ের কথা বলার অজুহাতে গজারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সে সুমাকে কিল-ঘুষি, লাথি মেরে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে আলামত গোপন করতে মুখে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে নিহতের মা মমতা বেগম (৭০) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে এসআই মতিউর রহমানের নেতৃত্বে তদন্তে নেমে পুলিশ হত্যাকারী রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার এসআই মতিউর রহমান বলেন, মরদেহটি উদ্ধারের সময় সেটি এতটাই বিকৃত ছিল যে প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোনো পরিচয়পত্র বা মোবাইল কিছুই পাওয়া যায়নি। আমরা প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, মোবাইল কললিস্ট, সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিং এবং স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সূত্র বের করি। অবশেষে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হই এবং হত্যাকারীকেও গ্রেপ্তার করি। এটি একটি ক্লুলেস হত্যা ছিল, কিন্তু টিমওয়ার্ক ও সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে আমরা এর রহস্য উদঘাটন করেছি।

তিনি আরও বলেন,এই সম্মাননা শুধু আমার একার নয়, শ্রীপুর থানার পুরো টিমের। আমরা চেষ্টা করেছি ভিকটিমের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে। ভবিষ্যতেও যেকোনো অপরাধ দমনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবো।

 

 

 

 

আরও খবর

Sponsered content