প্রতিনিধি ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৫৪:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ
দূর্গেশ সরকার বাপ্পী গোয়াইনঘাট :

সীমান্ত এলাকায় ৩টি উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৪ সীমান্ত জনপদ ( জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট কোম্পানীগঞ্জ ) আসনের উপজেলায় জুড়ে বইছে নির্বাচনী আমেজ।
ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত।
এই দুই ‘নট আউট’ রাজনীতিবিদ হচ্ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জামায়েতের মনোনীত প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। হার না মানা এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার নিজেদের মধ্যে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন ভোটের লড়াইয়ে কে আরিফুল না জয়নাল। তা নির্ধারিত করবেন সীমান্ত জনপদের তিন উপজেল জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাট কোম্পানীগঞ্জের প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটার।
ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী একটি প্রভাবশালী নাম। অপর দিকে জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠের এক জনপ্রিয় নাম।
প্রার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচনকেন্দ্রিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের আড্ডায়, আসরে ঘুরেফিরে নির্বাচনের কথা উঠছে। যার যার মতো করে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে, নিজেদের মধ্যে হচ্ছে যুক্তি তর্কবিতর্কও চলছে হরদমে এলাকার হাট- বাজর ও চা দেকানে।
স্থানীয় মানুষ ও দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সব দলেরই প্রার্থীরা বিভিন্ন হাটবাজার, গ্রামে উঠান বৈঠক, ছোট-বড় সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রচার চালছে।
কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি কথা বলছেন, ভোট চাইছেন।
সিলেট ৪ আসনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলা সদর ও পত্যন্ত গ্রামে।
সিলেট-৪ আসনের ভোটারা জানান
‘জয়নাল ভাই দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ‘স্থানীয় প্রার্থী’ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ ৫৪ বছরের আক্ষেপ ঘুচাতে জয়নাল ভাই আমাদের প্রথম পছন্দ।” আবার অনেকেই জানান, “আরিফ ভাই ভোটের রাজনীতির অদ্বিতীয় ম্যাজিক ম্যান । এবং অনেকই বলছেন জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোন বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মুল লক্ষ্য, সীমান্ত জনপদ উন্নয়নে আরিফ ভাইয়ের বিকল্প নেই।’
নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে পুরোদমে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা।
প্রতীক ঘোষণার পর থেকেই আনুষ্ঠানিক ভাবে মাইকিং, মিটিং, মিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম হয়ে উঠছে পুরো নির্বাচনী এলাকা।
সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। দীর্ঘ সতেরো বছর পর সরাসরি ভোটের মাঠে প্রার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতিতে গ্রামীণ জনপদ থেকে উপজেলা সদর সবখানেই বিরাজ করছে ব্যস্ততা প্রার্থীরা যাচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে । সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা গণসংযোগ, পথসভার মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করে এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এলাকার সমস্যা, প্রত্যাশা ও অভিযোগ শোনছেন এবং এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাদের উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন।
দীর্ঘদিন পর প্রার্থীদের সরাসরি ভোটের মাঠে নামতে দেখে ভোটারদের মাঝেও আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়েছে।নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সিলেট -৪ এর নির্বাচনী প্রচারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারেন- সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো জৈন্তাপুর কোম্পানীগঞ্জ গোয়াইনঘাট বাসী।
এ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আলোচনায় দুইজন প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ও জয়নাল আবেদীন।
প্রর্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং ভোটারদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পূরনের আশ্বাস দিচ্ছেন।
বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষা,পর্যটন, কর্মসংস্থান, পাথর কোয়ারি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন- এই বিষয়গুলোই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার নীর্বাহী কর্মকর্ত রতন কুমার অধিকারী জানান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পক্ষ-বিপক্ষ, মত-দ্বিমত আর উৎসাহ উদ্দীপনায় জমজমাট হয়ে উঠেছে সিলেট-৪ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ। ভোটাররা মনে করছেন, এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ে মালা কে পরচ্ছেন তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।

















