সারাদেশ

ভেজাল গুড়ের দাপটে,আসল রসের সংকট খেজুর গাছ হারিয়ে ঐতিহ্য হারাচ্ছে বিক্রমপুর বাঁশি।

  প্রতিনিধি ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৩৭:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

একসময় শীত এলেই বিক্রমপুর অঞ্চল খেজুরের রসের মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর থাকত।ভোরের কুয়াশা ভেদ করে গাছিদের হাঁক,কলসভরা টাটকা রস আর রসালো পিঠার উৎসব ছিল গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য।কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,গ্রাম ও আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণের নামে নির্বিচারে কাটা হয়েছে অসংখ্য খেজুর গাছ।

কাটা গাছের তুলনায় নতুন করে খেজুর গাছ রোপণের উদ্যোগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে খেজুরের রস সংগ্রহ কমে গেছে,বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু গাছির পেশা।
খেজুর গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়,এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হতো পাটিসাপটা,দুধচিতই,ভাপা পিঠা,তেলপিঠা,চন্দ্রপুলি,ক্ষীর ও পায়েসসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এসব নামের সঙ্গেই অপরিচিত হয়ে উঠছে।এদিকে আসল গুড়ের সংকট বাড়ায় ভেজাল গুড়ের দাপটও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরির তথ্য মিলেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,প্রকৃত খেজুর গাছ ও রসের সংকটই ভেজালের মূল কারণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে খেজুর গাছকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।এতে পরিবেশ সংরক্ষণ,কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয়খাদ্যসংস্কৃতি রক্ষা সম্ভব হবে।স্থানীয়দের দাবি,সড়ক নির্মাণে খেজুর গাছ কাটলে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন গাছ রোপণ,গাছিদের প্রশিক্ষণ ও ভেজাল গুড় উৎপাদনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা খেজুরের রস ও রসালো পিঠার ঐতিহ্য অচিরেই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই।

আরও খবর

Sponsered content