ময়মনসিংহ

নেত্রকোনায় প্রতিদিন বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট

  প্রতিনিধি ১১ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৪৯:০৭ প্রিন্ট সংস্করণ

সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :

প্রতিনিয়ত যানজট ও একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় নেত্রকোনা মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। আর প্রতিনিয়ত গ্রামীণ অভ্যন্তরীণ ছোট সড়ক ও সাইডলেনে ইজিবাইক ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য যাত্রী। এ জন্য ইজিবাইক ও অটোরিকশাকে দায়ী করা হলেও বাস্তবে সড়ক আইন না মানাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে চিহ্নিত হয়েছে সর্বত্র। এটা স্পষ্ট যে,শুধু ইজিবাইক ও অটোরিকশাই নয়, ট্রাফিক পুলিশের অবহেলা ও সংকটের কারণেও নেত্রকোনায় সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট বাড়ছে বলে দাবি সাধারণ মানুষ ও চিন্তাবিদদের। আর ট্রাফিক বিভাগে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র অনুসন্ধান ও সরেজমিনে রবিবার (১১ জানুয়ারি)নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টেই কোনো ট্রাফিক পুলিশ বা কনস্টেবল নেই। এমনকি রেলক্রসিং এলাকার রাস্তায় ও ট্রাফিক পুলিশের জন্য হাহাকার করছে।

২১.২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নেত্রকোনা পৌরসভার আওতায় প্রায় ১১৮.৭৯ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। আর এই সড়কের মধ্যে তিন রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই মোড়গুলো বিপদজনক হওয়া সত্ত্বেও শুধু মাত্র শহীদ মিনার, আখড়ার মোড়, তেরী বাজার মোড়, চক মসজিদ মোড়, থানার মোড়, রাজুর বাজার মোড়, মোক্তারপাড়া ব্রিজ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট রয়েছেন। অন্য কোথাও কোনো সার্জেন্ট তো দূরের কথা কোনো কনস্টেবলও নেই। তবে মদন বাস টার্মিনাল, ইসলামপুর সিএনজি স্টেশনে ট্রাফিক থাকলে ভালো হতো। এদিকে, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহীদ মিনার এলাকায় স্কুল ও অফিসগামী মানুষের ভিড় জমে যায়। এখানে দুইটি তিন রাস্তা মোড় পাশাপাশি হওয়ায় পথচারী ও ছোট যানবাহনের জন্য মহাবিপদজনক হয়ে উঠেছে। প্রায় সময় এখানে বাসচাপা হতে বেঁচে যায় সাধারণ মানুষ। শহীদ মিনারের পাশে সকাল বেলায় মেইন রোড বন্ধ করে পাইকারি বাজার বসায় চলাচলের সমস্যা হয়।

বিশেষ করে পৌরসভার যেসব মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ নেই, এসব স্থানে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ থাকা জরুরি বলে মনে করেন নেত্রকোনার সচেতন নাগরিক সমাজ। নেত্রকোনা পৌরসভার প্রতিটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ থাকা জরুরি বলে জানান পৌরসভার বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম। নেত্রকোনা পৌরসভার প্রতিটি মোড়ে একজন করে সার্জেন্ট থাকা জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ, তারা বলেন,মোড়ে মোড়ে শুধু কনস্টেবল রেখে লাভ নেই। কারণ সেতো মামলা দিতে পারেন না। এদিকে, পৌরসভায় ইজিবাইক ও অটোরিকশা যে হারে বাড়ছে তাও বিপদজনক। বহিরাগত গাড়ির চাপও ক্রমশ বেড়েই চলছে। অন্যদিকে পৌরসভায় যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে পৌর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা আগে প্রয়োজন বলে জানান নেত্রকোনার সচেতন নাগরিক সমাজ।

আরও খবর

Sponsered content