প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ২:৫৭:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুখ চিনে চিনে ক্ষমতাধরদের কার্ড ভিন্নমত পোষণকারীদের বাতিল, রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুত্বর অভিযোগ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড ইস্যু নিয়ে যশোরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার ভূমিকা। মূলধারার সাংবাদিক সমাজের অভিযোগ—কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা বা স্বচ্ছতা মানা হয়নি; বরং মুখ চিনে চিনে, ক্ষমতার দাপটধারী ও প্রভাবশালীদের জন্য সহজেই কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। বিপরীতে পেশাদার ও দীর্ঘদিন ধরে সংবাদকর্মে যুক্ত একাধিক সাংবাদিকের কার্ড বিভিন্ন অজুহাতে বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, কখনো তথ্য ঘাটতি কখনো অনলাইন মিডিয়া আবার কখনো নিবন্ধন জটিলতা’র মতো অস্পষ্ট কারণ দেখিয়ে একের পর এক সাংবাদিককে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। অথচ একই ধরনের কাগজপত্র ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ কিংবা প্রভাবশালী মহলের সুপারিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনায়াসেই কার্ড পেয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে যশোরের সাংবাদিক মহলে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেক সাংবাদিক এটিকে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাদার সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতি সীমিত করা মানে তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা। একাধিক সিনিয়র সাংবাদিক অভিযোগ করে বলেন, মোঃ তরিকুল ইসলাম, জাতীয় সাপ্তাহিক জাগ্রত জনতা পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন আমার সব কিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও শুধু তথ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সিরিয়াল নাম্বারের কপি না দেওয়ার কারণে বাতিল করেন, জাগ্রত জনতা পত্রিকার আরেক সাংবাদিক বলেন আমার ও একই সমস্যা দেখিয়ে বাতিল করেছেন, জাতীয় সাপ্তাহিক জাগ্রত জনতা পত্রিকার ডিএ ১৮২, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সিরিয়াল নাম্বার ২০৮ সব কিছু সঠিক থাকার পরেও, ৩ জনের পর্যবেক্ষণ কার্ড বাতিল করেন।
জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার আরেক সাংবাদিক মোঃ রফিকুল ইসলাম সবুজ এর কার্ড ও বাতিল করেন, তার কার্ড ছোট খাটো সমস্যা দেখিয়ে বাতিল করা হয়। এই বিষয়ে জাগ্রত জনতা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক কার্ড না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কর্মকর্তা বলেন একটি তথ্য না থাকার কারণে বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন যদি প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্মতি দেয় তাহলে কার্ড দেওয়া হবে,আর যদি তিনি বলেন আমি চিনি না তাহলে কার্ড দেওয়া হবে না। আগামীকাল সকাল ১০ টার সময় মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে তখন বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করে দেখা হবে।
যারা প্রশ্ন করে, সত্য লিখে, তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। আর যারা নির্দিষ্ট মহলের পক্ষে কাজ করে, তাদেরই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এটা স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে যশোর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন এবং কর্মসূচির ঘোষণার কথাও ভাবছেন সাংবাদিক নেতারা। সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে যদি পক্ষপাত, ক্ষমতার প্রভাব ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কাজ করে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে এখন সবার প্রশ্ন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধের এই অভিযোগের দায় কে নেবে?

















