কামাল হোসেন রাফি, তাহিরপুর প্রতিনিধি: ৬ মার্চ ২০২৩ , ৬:৫৩:২০ প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলায় গ্রামের কবরস্থানের জায়গা ও গ্রামবাসীর চলাচলের গোপাট (রাস্তা) লাঠিয়াল বাহিনী দারা জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামে। এদিকে সমাজের লোকজন কবরস্থান ও মানুষের চলাচলের রাস্তা জোরপূর্বক দখল করে মাটি কেটে ভরট করতে বাঁধা দিলে তাদেরও মারধরের হুমকির ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া তার লাঠিয়াল বাহিনী। অভিযুক্ত সাজিনুর মিয়া উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য । ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে গত ( ২৬ ফেব্রুয়ারী) মোঃ আব্দুল কাদির নামের স্থানীয় এক বৃদ্ধ ওই ইউপি সদস্য সাজিনুর সহ আরও ৩/৪ গংগের নামে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, সাজিনুর মিয়া ইউ/পি সদস্য হওয়ার পর তার নিজেস্ব লাঠিয়াল বাহীনি দ্বারা বিভিন্ন লোকজনের ভোগ দখলিয় সরকারি খাস ভূমি জোর পূর্বক দখল করা তার নিত্যদিনের ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে তাহিরপুর উপজেলাধীন মন্দিয়াতা মৌজায় সরকারি কবরস্থান ও চলাচালের গোপাট দখল করে সরকারি কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর দ্বারা মাটি কাটিয়া কবরস্থান ও গোপাট ভরাট করিয়া তাহার দখলে নেওয়ার চেষ্টা । যা ( তাহিরপুর উপজেলাধীন মৌজাঃ-মন্দিয়াতা, জেএল নং- আরএস ০৫, খতিয়ান নং- আরএস ০১ দাগ নং- আরএস ৩৪৫ ও ৩৪৪ পরিমান ১.৫০ শতাংশ কবরস্থান ও গোপার্ট)। এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী দেখতে পায়ে সাজিনুর ও তার সাথে কথা লোকজনকে বাঁধা নিষেধ প্রদন করে। এসময় ইউপি সদস্য সাজিনুর ও তার লাঠিয়াল বাহিনী সরকারি কবরস্থান ও পোপাট তাহার বলিয়া দাবি করে। এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের ক্ষেপে গিয়ে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেয়। পরে আব্দুল কাদির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ প্রতিবাদ করিলে এসময় সাজিনুর ও বৃদ্ধ আবুল কাদিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া ও তার লাঠিয়াল বাহিনী বৃদ্ধ আবুল কাদিরকে মারধর করে। পরে নিরুপায় হয়ে মারধরের শিকার আব্দুল কাদির গত (২৬ ফেব্রুয়ারী) সাজিনুর মিয়া সহ আরও ৩/৪ গংগের নামে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শুধু তাই নয়! ইতিপূর্বেও ইউপি সদস্য সাজিনুর মিয়া তাহিরপুর উপজেলাধীন কিসমত মন্দিয়াতা মৌজায় কয়েকজন হতদরিদ্র কৃষকের ভোগ দখলিয় ভূমি হইতে উচ্ছেদ করিয়া মাটি ভরাট করিয়া ১১টি প্লট তৈরী করিয়া ১১টি প্লট প্রায় ১৫,০০,০০০/- (পনের লক্ষ) টাকায় বিক্রয় করিয়া টাকা আত্মসাত করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন বলেন, আমরা মেম্বার সাজিনুরের লাঠিয়াল বাহিনীর কাছে অসহায়। সে এলাকায় কবরস্থান ও সরকারি রাস্তাসহ সব সরকারি জায়গায় জোরপূর্বক দখল করে কোনটা ভরাট করে নিজের দখলে নিয়েছে, আবার কোন জায়গায় পুকুর করে মাছ চাষ করে ভোগদখল করছে। সে সরকারি লোক সার্ভেয়ার, তহসিলদার এমন কি ইউএনও স্যারের নির্দেশও মানেনা।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হক বলেন, আমাদের কবরস্থান ও মানুষের চলাচলের গোপাট (রাস্তা) সাজিনুর মেম্বার তার লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক দখল করে ভোগদখল করছে। গ্রামবাসী বাঁধনিষেধ করলে আমাদের মারপিট করে। পরে আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানালে সার্ভেয়ার তহসিলদার এসে মাইপা( মেপে) কবরস্থান ও রাস্তায় লাল নিশানা টানিয়ে দিয়ে যায়। তার যাওয়ার পরেই সাজিনুর ও তার লাঠিয়াল বাহিনী নিশানা উড়িয়ে ফেলে দিয়ে আবার দখল করে। সে সরকারের নিষেধাজ্ঞাও মানেনা। এখন এই বিচার আল্লার কাছে দিছি। এখন আল্লায় যদি বিচার করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাজিনুর মিয়া তার উপর সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, আমি আমার রের্কডের জায়গায় পুকুর করেছি। কোন সরকারি কবরস্থান বা রাস্তা দখল করেনি। এটা তহসিলদার নিজেই আমাকে মেফে দিয়ে গেছে। অভিযোগকারি আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করার পর সে আমার বিরুদ্ধে এখন এই মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আব্দুল কাদির নিজেই সরকারের অনেক খস জায়গা জোরপূর্বক দখল করে খাচ্ছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আআসাদুজ্জামান রনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

















