প্রতিনিধি ২৯ অক্টোবর ২০২৫ , ১১:১৩:৩৬ প্রিন্ট সংস্করণ
কামাল হোসেন, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন মেধাবৃদ্ধি মূল্যায়নে জেলা প্রশাসন প্রাথমিক মানোন্নয়ন পরীক্ষা – ২০২৫ ইং এর উদ্যোগ নেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। মোট ১০০ নম্বরের ৩ ঘন্টার পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞানসহ থাকছে বিশ্ব পরিচয়। এ লক্ষ্যে আজ (২৯ অক্টোবর বুধবার) সকাল ১০টায় জেলার ১২টি উপজেলার ১ হাজার ৪৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৭৬ হাজার ৪৮৫ জন প্রাথমিক শিক্ষার্থী ‘ জেলা প্রশাসন প্রাথমিক মানোন্নয়ন পরীক্ষা – ২০২৫ অংশ নেয়। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ১২টি উপজেলার মোট ৩০৩টি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা একযোগে শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এরমধ্যে ছাতক উপজেলায় ৬০টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ৩৬টি, তাহিরপুর উপজেলায় ৩৬টি, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৩২টি, দিরাই উপজেলায় ২৬টি, ধর্মপাশা উপজেলায় ২৪টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২৩টি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৯টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১৭টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১২টি, মধ্যনগর উপজেলায় ১০টি, শাল্লা উপজেলায় ৮টি কেন্দ্র রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের এক শিক্ষার্থীর বাবা খোকন আহমেদ বলেন, এইরকম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ লেখাপড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াবে। পাশাপাশি আমাদের (অভিভাবকদের) ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার মনোযোগী করতে আরও উৎসাহিত হবে। ধন্যবাদ জানাই সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসককে এইরকম একটি ভালো উদ্যোগ দেয়ার জন্য। বাদাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র সচিব বাদাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন প্রাথমিক মানোন্নয়ন পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার সামগ্রিক মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়ের একটি কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। একইসাথে প্রাথমিক স্তর থেকে ঝরেপড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, বিশেষ আরএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করা হবে। যা নির্ভুলভাবে অতিদ্রুতই ফল প্রকাশে সহায়তা করবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের জন্য মূলত আমাদের এই আয়োজন। এর মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষার গুণগত মানের একটি বাস্তব চিত্র পাব। কেবল মূল্যায়ন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি করে বিদ্যালয়মুখী হবে। একইসাথে পড়াশোনার প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়বে। এছাড়াও ঝরে পড়া রোধ এবং নিয়মিত বিদ্যালয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ একটি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

















