চট্টগ্রাম

ফেনীতে সবজির বাজারে লেগেছে শীতের ছোয়া, কমছে দাম, লাগছে স্বস্তি

  প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৬:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

সাইফুল আলম হিরন, জেলা প্রতিনিধি, ফেনী :

দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অন্যান্য জেলার মত উত্তাপে থাকা সবজির বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে, শীতের ছোঁয়া লেগেছে সবজির বাজারে। ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করছে। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। তবে দুই একটি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে। অন্যদিকে মাছ বিক্রেতাদের দাবি মাছের দাম তুলনামূলক সস্তা হলেও বাজারে ক্রেতা কম।

গতকাল বৃহস্পতিবার পহেলা জানুয়ারি বছরের প্রথম দিন ফেনীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিপিস ফুলকপি (মাঝারি) বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়, বাঁধাকপি (মাঝারি) প্রতি পিস ৩০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠা ১৫ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, সসিন্দা ৫০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ২৫ টাকা, শালগম প্রতি কেজি ৪০ টাকা, খিড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা এবং কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া আজকের বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ আকার ভেদে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঙাস মাছ ১৬০ টাকা, রুই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩২০ টাকায়, কাতল মাছ ২৫০ টাকা, কই মাছ প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় চিংড়ি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭৫০টাকা, সুরমা মাছ ১৬০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারের ব্যবসায়ী কালু মিয়া বলেন, মাছের বাজার দর কম। কম দামে বিক্রি করলেও বাজারে ক্রেতা কম। ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত মাছ নিয়ে আসলেও ক্রেতা কম হওয়ার কারণে কম দামে ছেড়ে দিচ্ছে। গ্রামের দিকে, পাড়ায় পাড়ায় মাছ বিক্রি হয় তাই বাজারে ক্রেতা কম।

মহিন নামে আরেকজন বিক্রেতা বলেন, দিনে যেখানে লাখ টাকার উপর বিক্রি করতাম এখন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করি। মাছের দাম অনেক কম তবে বাজারে ক্রেতা নেই।

শহরের বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আলমঙ্গির হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজি বাজারে এসেছে এতে সবজির দাম কম। গত দুই সপ্তাহ যাবত দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শীতকালীন প্রতিটি সবজি ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। কিছু কিছু সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে চাল, ডাল ও তেলসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও রসুন আদার দাম ঊর্ধমূখী। তবে কমেছে পেঁয়াজের দাম। ফেনীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আটাশ চাল ৬২ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ টাকা, চিনিগুড়া চাল ১০০ টাকা, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৭০ টাকা, সয়াবিন তেল ১৮৭ টাকা লিটার, মসুরের ডাল ১১০ টাকা,বুটের ডাল ৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৬৫ টাকা, রসুন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা শান্তি কোম্পানি এলাকার ক্রেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সবজির দাম খুবই বাড়তি ছিল। সেই তুলনায় এখন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শীতের সময় হিসেবে আরও কমা উচিত ছিল সবজির দাম। সারা বছর তো বাড়তি দামে এসব কিনে খেলাম, কিন্তু সবজির ভরপুর মৌসুম এই শীতে সবজির দাম গ্রামগঞ্জে একেবারেই কম। সেই তুলনায় শহরে আরেকটু দাম কমলে বেশি ভালো হতো

ফেনী পৌর তরকারি আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু জাফর বলেন, এখন বাজারে শীতকালীন সবজি সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিটি সবজি কম দামেই বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্ক ফোর্সের অভিযানের পাশাপাশি ভোক্তা অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছে।কোন অভিযোগ পেলেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আরও খবর

Sponsered content