তথ্যকণিকা

মধ্যনগরে হাওর রক্ষা বাঁধের ভাঙ্গা মেরামত সংস্কার কাজের ধীরগতি

  প্রতিনিধি ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৩৪:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

সুরঞ্জন তালুকদার (মধ্যনগর প্রতিনিধি):

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় মানুষের একমাত্র জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস বোরো ধান। অথচ এই ফসল রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজে চরম ধীরগতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার অসংগতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে নিয়ম রক্ষার উদ্বোধনের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় প্রতিবছর একই ধরনের পুনরাবৃত্তিতে ক্ষুব্ধ ও উৎকণ্ঠিত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

স্থানীয় কৃষক, পাউবো ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে হাওর ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও মধ্যনগরে চলতি মৌসুমে তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। উপজেলার চারটি হাওরে ৪১টি প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পে এখনো বাঁধ নির্মাণ বা মাটি কাটার কাজ শুরুই হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে বিভিন্ন বাঁধ এলাকা পরিদর্শন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর চামারদানি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাইলানি হাওরে পিআইসি-১২-এর আওতাভুক্ত একটি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও অধিকাংশ প্রকল্পে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি কয়েকটি প্রকল্পে পিআইসি গঠন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়নি।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডুবা, কাইলানি, গুরমার ও রুইবিল হাওরে মোট ৫৮.১৫৯ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও ভাঙন রোধের জন্য ৮ কোটি ৮০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে ৪১টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কাজ শেষ করার কথা থাকলেও জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। পাউবো স্থানীয় কর্মকর্তারা কাজ চলমান বলে দাবি করলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন মধ্যনগর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব খসরুজ্জামান কবীর বলেন, প্রতি বছরই একই কথা শোনা যায় কাজ শুরু হয়েছে, হবে। কিন্তু মাঠে এসে দেখি কোনো কাজ নেই। এখন যেভাবে কাজের গতি চলছে আর পিআইসিগুলোর মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে, তাতে শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে শুধু নামমাত্র কাজ করা হবে। এ ধরনের কাজ আগাম বন্যার চাপ সামলাতে পারবে না। এতে চলতি মৌসুমে আমাদের বোরো ফসল চরম ঝুঁকিতে পড়বে।

পাউবোর মধ্যনগর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নুর আলম বলেন, বেশির ভাগ প্রকল্পের কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজও দ্রুত শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কাবিটা স্কিম প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, সার্ভে দেরিতে হওয়ায় বাঁধের কার্যক্রম পিছিয়েছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ক্লোজার এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কাজ শেষ করা হবে। যে প্রকল্পগুলো এখনো শুরু হয়নি, সেগুলোর কাজ এক-দুইদিনের মধ্যেই শুরু হবে

আরও খবর

Sponsered content