প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:২১:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
মিরাজ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার ব্র্যাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী দেব স্বারতী তীর্থ, যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার পথে রয়েছেন।
তীর্থের অদম্য মেধা এবং নিষ্ঠার পরিচায়ক তার উদ্ভাবিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-ভিত্তিক মাল্টি-ফাংশনাল ড্রোন এবং অত্যাধুনিক রকেট ও মিসাইল সিস্টেম। করোনাকালীন সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রোগ্রামিং শিখতে শুরু করা তীর্থ আজ তার গবেষণার মাধ্যমে প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পেয়েছেন। তার উদ্ভাবিত ড্রোনে রয়েছে AI ভিত্তিক নজরদারি, অবজেক্ট ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন সুবিধা, যা বিশেষভাবে সামরিক ও উদ্ধার অভিযানে কার্যকরী হবে। তাছাড়া, তিনি এখন কাজ করছেন এমন একটি লো-সিগনেচার মিসাইল ডিজাইন নিয়ে, যা রাডার এড়িয়ে চলতে সক্ষম।
তীর্থের প্রযুক্তি বিষয়ে এই উদ্ভাবন তার একক প্রচেষ্টার ফলাফল, তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। এর আগে মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেলেও বিমান ভাড়া ও অন্যান্য খরচের অভাবে তীর্থ সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন।
এখন, ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য রকেট ও মিসাইল গবেষণা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন তীর্থ। কিন্তু তেমনই আবার তার এই সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কারণ অর্থনৈতিক সংকট তার পথরোধ করছে।
তীর্থের বাবা তাপস কুমার দাস ও মা সঞ্চীতা সাহা জানান, তাদের সন্তান যাতে তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের মতে, “দারিদ্র্যই এখন আমাদের সন্তানের সবচেয়ে বড় বাধা।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিন্দ্র নাথ রায়ও জানিয়েছেন, “রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তীর্থ দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে বড় অবদান রাখতে পারবে।”
নীলফামারীর এই প্রতিভাবান কিশোরের গবেষণাকে এগিয়ে নিতে সমাজের সবার সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক সহায়তা পেলে দেব স্বারতী তীর্থ শুধু নিজের স্বপ্নই পূর্ণ করতে পারবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

















