প্রতিনিধি ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:১২:০৯ প্রিন্ট সংস্করণ
এনামুল হক ছোটন, ময়মনসিংহ

ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, জনগণের ভোট দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখ প্রতিষ্ঠিত হবে, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের ন্যায অধিকার, মানুষের মৌলিক অধিকার, মানুষের ন্যায় অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা জেলাগুলোতে বিগত ১৭ বছরে কোন সংস্কার হয়নি, কারণ জনগণের ভোটের অধিকার ছিলো না, জনগণের প্রতিনিধি ছিলো না। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সঠিক চিকিৎসা সেবা ছিলো না, ঠিকমতো ঔষধ দেওয়া হতো না, অর্থাৎ মানুষের মৌলিক অধিকার বা চাহিদাগুলো পুরণ করা হতো না। এজন্যই ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে- ময়মনসিংহ বিভাগের নির্বাচনী সমাবেশের উপস্থিত হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চম দিনে ঢাকার বাইরে এটি ছিল তার তৃতীয় বড় সমাবেশ। তার উপস্থিতিতে সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এই নির্বাচনী সমাবেশে বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভাষণ দেন। যদিও দলীয়ভাবে জানানো হয়েছিল, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করবেন, তবে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে তার আগমন ঘটে।
মঞ্চে ওঠার আগে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশেই জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্যকালে তারেক রহমান আরও বলেন, ময়মনসিংহের কৃষক ভাইদের সমস্যা রয়েছে, পোনা উৎপাদন করে অনেকেই,কিন্তু পোনা উৎপাদন করে লাভবান হতে পারে অনেকেই, এই পোনা উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিদেশে রপ্তানি করার ব্যবস্থা করা হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কৃষকরা উপকৃত হবে।
বাংলাদেশ চায় সঠিক অভিভাবক আর যুবকরা চায় কর্মসংস্থান। যা বিএনপির রয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় অনেকেই পরিকল্পনা কথা না বলে গীবত করে, যা কাম্য নয়, জনগণের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে, বিএনপির জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিএনপির আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হলে দেশের আইনশৃংখলা উন্নতির পাশাপাশি জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং দূর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। আপনারা জানেন মা- বোনদের উন্নয়নের জন্য ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রী করা হয়েছিলো, বর্তমানে নারীরা শিক্ষিত হয়ে পুরুষদের পাশাপাশি কাজ করছেন, এই মা বোনদের আরও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্যই আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করতে চাই, যেন তাদের চাল ডালের জন্য কষ্ট করতে না হয়। এছাড়াও কৃষক ভাইরা ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষক ভাইদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করতে চাই তারা যেন এই কার্ডের মাধ্যমে সার,কীটনাশক, বীজ সহ কৃষি উপকরণ সহজেই পায়। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য সংগঠনের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ও সমন্বয় জরুরি। আপনারা আগামী ১২ তারিখ ফজরের নামাজ আদায় করে দোয়া করবেন এবং আশেপাশের মানুষের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন, ভোট দিয়ে চলে আসলে হবে না, ভোট পাহারা দিবেন যেন চুরি না হয়, ভোটের রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। এজন্যই মিলেমিশে করবো কাজ গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ।
সভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ইমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ সদর আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।
তার উপস্থিতিকে ঘিরে ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। সার্কিট হাউজ মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে।

















