প্রতিনিধি ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:১৯:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
সোহেল খান দূর্জয়,নেত্রকোনা :

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আতঙ্কে নিরীহ পরিবার, থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ভূমি দখল, মাছ ও গরু লুটপাট এবং ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় হুমকি-ধমকির মুখে পড়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে একটি শান্তিপ্রিয় দরিদ্র পরিবার। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলার ৪নং মাঘান সিয়াদার ইউনিয়নের রাতিখালী গ্রামের মরহুম আব্দুল জলিলের পুত্র মো. শাহিন মিয়ার পৈতৃক সম্পত্তি প্রায় ২ একর ৫০ শতক ভূমির ওপর অবস্থিত একটি ফিসারিতে জোরপূর্বক অনধিকার প্রবেশ করে মাছ, গরু লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ভুক্তভোগী শাহিন মিয়ার অভিযোগ, ফিসারিতে থাকা আনুমানিক ৬ লক্ষ টাকা মূল্যের মাছ লুট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এছাড়া ফিসারির পাড়ে থাকা ৩টি গাভী (মূল্য প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা) ও ২টি ষাঁড় (মূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা) জোরপূর্বক নিয়ে যায়। পাশাপাশি গরু খামারের চাষকৃত ঘাসের ক্ষেতে অনধিকার প্রবেশ করে প্রায় ১৫ কাটা জমির ঘাস নষ্ট করা হয়, যাতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ উপজেলার গলগলি মল্লিকপুর গ্রামের মৃত রবি তালুকদারের পুত্র রনি তালুকদার, গৌতম তালুকদারের পুত্র বাপ্পী তালুকদার, মহান্দ্রগুনের পুত্র স্বপন গুনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০ জনকে আসামি করে মো. শাহিন মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ আমলি আদালত, নেত্রকোণায় একটি মামলা দায়ের করেন। একইসঙ্গে থানায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি রনি তালুকদার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থায় কর্মরত থাকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি ছুটিতে এলাকায় এসে গাঁজা বহন ও বিক্রি করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সর্বশেষ ছুটিতে তিনি প্রায় ৫ কেজি গাঁজা নিয়ে এসে ফিসারির ভেতরে মাদক সেবনের আস্তানা গড়ে তোলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী শাহিন মিয়া জানান, এসবের প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফিসারিতে হামলা চালায়। তিনি বাধা দিতে গেলে মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। শাহিন মিয়া সাংবাদিকদের জানান,“থানায় অভিযোগ ও আদালতে মামলা করার পরও রনি তালুকদার আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সুযোগ পেলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রনি তালুকদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

















