প্রতিনিধি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ৩:২২:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ
আল মিরাজ,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি :

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক সেনা সদস্যসহ পাঁচজনকে আটক করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার মতিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক সেনা সদস্যের নাম মো. আলী হোসেন (১৯)। তিনি ডিমলা উপজেলার টেপাখরিবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ খরিবাড়ী এলাকার তেলিবাজার গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সাভার ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তভোগী তরুণী মতিরবাজার এলাকার জয়নাল মিয়ার (ছদ্মনাম) উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত তিন থেকে চার বছর ধরে আলী হোসেনের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেনাবাহিনীতে চাকরিতে যোগদানের পর বিয়ের বিষয়ে গড়িমসি শুরু করলে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সোমবার রাতে আলী হোসেন মেয়েটির বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় উভয়েই তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরে মেয়ের পরিবার বিয়ের দাবি জানালে আলী হোসেন সম্মতি প্রকাশ করেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার পর স্থানীয়দের উদ্যোগে পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দু’জনের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনা সদস্য ও তরুণীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও তিনজনকে আটক করে।
ভুক্তভোগী তরুণী জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণে তিনি বিয়ের আশ্বাসে বিশ্বাস করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান। পরবর্তীতে এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে সেনা সদস্য মো. আলী হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর তিনি মেয়ের বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ছুটিতে বাড়িতে এসে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে এবং পরে বিয়ে দেওয়া হয়।
সেনা সদস্যের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনার রাতে তিনি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। পরে পুলিশ তার ছেলেসহ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিলেও মামলা রেকর্ড হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানায়।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেনা সদস্যসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

















