তথ্যকণিকা

অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন‌, কর্মহীন অনিশ্চয়তায় ইটভাটা শ্রমিক

  প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:৪০:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

হবিগঞ্জ  থেকে ষ্টাফরির্পোটার ইলিয়াস আলী মাসুক

হবিগঞ্জ জেলার ইনভাটার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে যে আয় করেন শ্রমিকরা, তা দিয়েই চলে তাদের সংসার—যেখানে একজন শ্রমিকের আয়ের ওপর নির্ভরশীল একটি পরিবার। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এ নিয়ে ভবিষ্যতে কর্মহীনতা ও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন এসব শ্রমজীবী মানুষেরা।

ইটভাটায় সারি সারি কাঁচা মাঠির তৈরী ইট পুড়িয়ে লাল ইট, আর শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণা—এই দৃশ্যই বহু বছর ধরে হবিগঞ্জ জেলার প্রান্তিক গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ইট ভাটায় দিন-মজুর হিসেবে কাজ করে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার। ভোরের আলো ফোটার আগেই কাজে নামতে হয় তাদের। কাঁচামাল বহন, ইট সাজানো বা পোড়ানো—সব মিলিয়ে কঠিন শ্রমের বিনিময়ে যা আয় করে, তাই দিয়ে চলে পুরো পরিবারের খরচ।

এদিকে সম্প্রতি পরিবেশ দূষণ রোধ ও আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের যৌথ অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে চুলারচিমনি, বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ইটের উৎপাদন। সচেতন মহল বলছে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবাও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিবেশ রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে এসব অভিযান জরুরি হলেও, ইট ভাটার শ্রমিকরা কাজ হারিয়ে যাওয়ায় ব্যাকারত্বে দিন কাটাচ্ছে ভাটার শ্রমিকরা।তারা বলছে , বিকল্প কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় ইটভাটাতেই বছরের পর বছর কাজ করে আসছেন এসব শ্রমিকরা।

ইটভাটা শ্রমিকরা জানাচ্ছেন তাদের বাপ দাদার আমল থেকেই তারা এই পেষা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন, তাছারা অন্য কোন কাজ তাদের জানা নেই। এখন তারা সংশার চালাবেন কি করে পরিবারে ৬/৭ জন সদস্য তারা খা কি।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে। তবে শ্রমিকদের পুনর্বাসন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে সমন্বিত ভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

সিংক- লিটন চন্দ্র দে। (বাহুবল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার) বাহুবল,হবিগঞ্জ তিনি জানান পরিবেশ মাটির টক্সিন রক্ষায় অবৈধ্য ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকদের প্রত্যাবাসন পরবর্তীতে সরকারের যদি কোন নির্দেশনা আসে তাহলে আমরা পরবর্তী ব্যাবস্হা গ্রহন করব, এখন এই ধরনের কোন নির্দেশ নাই।

পরিবেশ রক্ষা যেমন সময়ের দাবি, তেমনি জীবিকার নিশ্চয়তাও একটি বড় সামাজিক বাস্তবতা। এখন দেখার বিষয়এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য আনতে কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও খবর

Sponsered content