প্রতিনিধি ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:২৩:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় রঞ্জিত চন্দ্র কর (৫৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। আহত রঞ্জিত চন্দ্র কর উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে শুক্রবার সকালে উপজেলার ভটিপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার আহতের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে ভাটাপাড়া গ্রামের সরজিত চন্দ্র কর (৩২), প্রদীপ চন্দ্র কর(২৮), সঞ্জিত চন্দ্র কর(৪০) ও সুশীল চন্দ্র করসহ (৬৫) প্রতিপক্ষের ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা রঞ্জিত চন্দ্র করের সাথে একই গ্রামের সুশীল চন্দ্র করদের জমিজমা সহ নানান বিষয়াদি নিয়ে পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে রঞ্জিত চন্দ্রকে আক্রমণের পরিক করেন প্রতিপক্ষের লোকজন। শুক্রবার সকালে উকিল মুন্সী বাজারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রঞ্জিত চন্দ্র কর। বাড়ির অদূরে নির্মাণাধীন সেতুর পাশে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সরজিতসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রঞ্জিতের ওপর হামলা চালায়। এসময় লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রঞ্জিতের দুই পা ও শরীরে গুরুতর জখম করে। রঞ্জিতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন আহত রঞ্জিত চন্দ্র করকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। পরে সেখানে তার অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মমক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।
আহত রঞ্জিত চন্দ্র করের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বলেন, আমাদের ভাটাপাড়া গ্রামটি এ ইউনিয়নের মধ্যে হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আমরা সাত ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ ভাইয়ের পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছি। কিন্তু আমার অন্য দুই ভাইসহ পুরো গ্রামের লোকজনই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নির্যাতনের মধ্য দিয়ে পার করেছি। যেকোন বিষয় নিয়ে আমার দুই ভাইসহ গ্রামের লোকজন এক হয়ে আমাদের ওপর অত্যাচার চালায়। আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেলেও আমাদের ওের অত্যাচার কমেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















