প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:২৯:২৬ প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিনিধি মোঃ তপছিল হাছানঃ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল বের করার সময় দু’জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মতলব পৌরসভার ভাঙ্গারপাড় এলাকার বাইপাস সড়কে মুখোশধারী ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি “প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না” স্লোগান দিয়ে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে দুটি মাইক্রোবাসে করে কচুয়া ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা ওই মিছিলকারীরা হঠাৎ বাইপাস সড়কে নেমে মিছিল শুরু করে। ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হয়ে মিছিলের শব্দ শুনে স্থানীয় যুবদল কর্মী কামাল বেপারী ও শ্রমিকদল কর্মী কাইয়িম বেপারীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে ধাওয়া দিলে মিছিলকারীরা দ্রুত মাইক্রোবাসে উঠে পালিয়ে যায়। তবে পালাতে না পারায় ইসমাইল হোসেন মেহরাজ (২৪) ও ইমরান হোসেন ইমন (২২) নামে দুই যুবককে আটক করা হয়।
আটককৃতদের কাছ থেকে একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়, যাতে কচুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নাম লেখা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক দু’জনই নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আটক ইসমাইল হোসেন মেহরাজ শাহরাস্তি উপজেলার চিতষী গ্রামের কলিম উল্লাহর ছেলে এবং অপর আটক যুবক ইমরান হোসেন ইমন কচুয়া উপজেলার আইনগিরী গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাহিদুল ইসলাম কিরণ বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে কচুয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সেলিম মাহমুদের ছবি সংবলিত ব্যানার নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। স্থানীয় জনতার সহায়তায় দু’জনকে আটক করা সম্ভব হয়। এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করি।”
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় যুবদল কর্মী কামাল বেপারী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।”

















