চট্টগ্রাম

আরাকান আর্মির মাইন বিস্ফোরণে পা বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশি যুবক

  প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:১২:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

রেজাউল করিম, টেকনাফ

টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় ফের আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশি যুবক হানিফ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জীবিকার প্রয়োজনে সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় কাজ করছিলেন হানিফ। হঠাৎ একটি পুঁতে রাখা মাইনের ওপর পা পড়তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ছুটে গিয়ে আহত অবস্থায় হানিফকে উদ্ধার করে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যান। পরে তাকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

একদিন আগেই শিশুর শরীরে গুলি। এদিকে ঘটনার ঠিক একদিন আগেই একই সীমান্তের হোয়াইক্যং লম্বাবিলে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গোলাগুলির রেশ বাংলাদেশ অংশে এসে পড়ে। বাড়ির উঠানে খেলতে থাকা এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।সীমান্ত এখন মৃত্যুপুরী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তের ওপারে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে স্থলমাইন পুঁতে রাখছে। কিন্তু এসব মাইনের শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ—কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এমনকি শিশুরাও।

একজন ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “আমাদের দেশের মানুষ একের পর এক মারা যাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। অথচ সৈনিকরা শুধু বিনয়ী আচরণ করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছে। এত সৈনিক রেখে যদি দেশের মানুষকে রক্ষা করা না যায়, তাহলে এই নিরাপত্তার মানে কী?”প্রশ্নের মুখে সীমান্ত নিরাপত্তা

সীমান্তে প্রতিনিয়ত মাইন বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন,

সীমান্তে কার্যকর নজরদারি নেই।ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করা হয়নি

স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়নি।স্থানীয়দের দাবি এলাকাবাসীর প্রধান দাবিগুলো হলো—

ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবিলম্বে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ। সীমান্ত জুড়ে মাইন শনাক্ত ও অপসারণ কার্যক্রম জোরদার, স্থায়ী সেনা টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি আহত ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন

টেকনাফ সীমান্ত যেন আজ রক্ত আর কান্নার নাম। প্রতিদিন কোনো না কোনো পরিবারের স্বপ্ন থেমে যাচ্ছে মাইনের শব্দে। প্রশ্ন থেকেই যায়, আর কত লাশ আর পঙ্গুত্ব দেখলে সীমান্তে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?

আরও খবর

Sponsered content