তথ্যকণিকা

সৈয়দপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে তিন দিন ধরে মাছ বাজার বন্ধ, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

  প্রতিনিধি ১২ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:০১:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ

মিরাজ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মাছ বাজারে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের অবস্থান ধর্মঘটের ফলে তিন দিন ধরে বাজার বন্ধ রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা ও পাইকারদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতের দিকে সৈয়দপুর শহরের প্রধান মাছ বাজার পরিদর্শন করলে দেখা যায়, সব দোকান বন্ধ রয়েছে এবং কোথাও কোনো মাছ বিক্রির কার্যক্রম নেই। এর আগে, বিকেলে মাছ ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। তাদের দাবি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওয়াকার আলী ও তার কয়েকজন সহযোগী নিয়মিতভাবে মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে, যখন তারা চাঁদা নিতে আসে, তখন ব্যবসায়ীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওয়াকার আলী ও তার লোকজন কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। এ ঘটনার পর, ব্যবসায়ীরা সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ মাছ বাজারের সব দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন। বর্তমানে এই আন্দোলন তিন দিন ধরে চলমান রয়েছে।

মাছ ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিয়ে আসছিলাম। এখন দেশের পরিস্থিতি বদলেছে, আমরা আর চাঁদাবাজি মেনে নেব না। মাছ বিক্রি করে যে আয় হয়, তাতে পরিবারের খরচই চলে না, সেখানে চাঁদা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।” আরেক ব্যবসায়ী নওশাদ হোসেন পলু বলেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাদের মারধর করা হয়েছে। আমরা সবাই এক হয়ে প্রতিবাদে দোকান বন্ধ রেখেছি এবং থানায় অভিযোগ করেছি। সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত শহরের কোনো মাছ ব্যবসায়ী বেচাকেনা শুরু করবে না। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যাব।”

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদে পুরো মাছ বাজার অচল হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা ও পাইকাররা বিপাকে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ব্যবসা স্বাভাবিক করা হোক।

আরও খবর

Sponsered content