প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৬:১১:৫০ প্রিন্ট সংস্করণ
মুহাম্মদ আলী,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র (কমপ্লেক্স) নিয়ে, পটিয়া আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া মাদরাসার পরিচালক পরিচয় দেয়া, মৌলভী আবু তাহের, অনধিকার চর্চা ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, কমপ্লেক্স এর পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুছ।
শনিবার (২৪শে জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র,কমপ্লেক্স এর লাইব্রেরী কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করে বলেন,গত ২২শে জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানের একটি মিটিং জাতীয় নির্বাচনের কারনে পরবর্তীতে নতুনভাবে মিটিং এর সময় নির্ধারণ করা হবে জানিয়ে স্থগিত করার আদেশ প্রদান করেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মিজ শামিম আরা রিনি মহোদয়।
জেলা প্রশাসকের আদেশের পরেও গত ২২শে জানুয়ারি মৌলভী আবু তাহের, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ বান্দরবানের কোন এক জায়গায় বসে,আওয়ামী দোসর ও বিভিন্ন মামলার আসামীদের নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একতরফাভাবে মিটিং করে অনধিকার চর্চামূলক আমেলা ও এমদাদিয়া কমিটি গঠন করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি ইতিপূর্বে কখনো ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রে না যাওয়ার কারণে, মৌলভী আকতার নামের ব্যক্তির সাথে বান্দরবান ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই ।
পরে জানতে পারি যে, শিক্ষা কেন্দ্রের কথা বলে আমাকে বান্দরবান শহরের অন্য একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে । উপরন্তু যদি মৌলভী আবু তাহের তার দাবিতে সত্যবাদী হতো, কিংবা তার সৎ ও নৈতিক সাহস থাকতো তাহলে ডিসি মহোদয়ের উপস্থিতিতেই তাঁর কার্যালয়ে বৈঠক করতো, অথবা সরাসরি ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে হলরুম/মিলনায়তন/মেহমান খানায় আলোচনায় বসতো।
এসময় আরো জানানো হয় বর্তমানে পটিয়া মাদরাসার সাথে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনটি মামলা চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ ও পরিবেশ আদালতে চলমান। এসময় মৌলভী আবু তাহের,পটিয়া আল-জামিয়া আল- ইসলামিয়া মাদরাসার বৈধ পরিচালক কিনা?, তারমধ্যে যথেষ্ট বিতর্কও রয়েছে বলে ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ হতে অভিযোগ করা হয়। মামলা চলমান থাকা অবস্থায়,কোন প্রকার সভা, সমাবেশ ও কমিটি গঠন করা আদালত অবমাননার শামিল বলে জানানো হয়।
অযৌক্তিক এবং একতরফা সিদ্ধান্তের দ্বারা শুধু ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র নয়, আল-জামিয়া আল- ইসলামিয়া পটিয়ারও সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন প্রতিষ্ঠান পরিচালক, এবং এধরনের অনধিকার চর্চা ও হুকমি মূলক কার্যকলাপের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে এধরনের কার্যকলাপ থেকে
বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা কেন্দ্রের সিনিয়র শিক্ষক, মাওলানা ইসহাক, মাওলানা এইচ, এম আবদুস সালাম, বনরুপা ছিদ্দিক নগরের স্থায়ী বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোঃ আনোয়ার,বনরুপা ছিদ্দিক নগরের স্থায়ী বাসিন্দা মো: বশর, শিক্ষা কেন্দ্রের সিনিয়র শিক্ষক মো: মোয়াজ্জেম হোসেন’সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্ন শিক্ষকগন, বান্দরবান প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, বান্দরবান প্রেসক্লাব সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক আবুল বশর ছিদ্দিকী,সাংবাদিক মো:ইসহাক, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম টিটু,সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী,সাংবাদিক মো:শহিদুল ইসলাম’ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।
প্রসঙ্গত ১৯৮৯ সালে বান্দরবানের ধর্ম,প্রিয় ও শিক্ষানুরাগী জনগণকে নিয়ে, অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাইখুল আরব ওয়াল আজম আল্লামা হযরত ইউনুছ আব্দুল জাব্বার (রহ:) প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ছিলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক মহোদয় জনাব নাজমুল আলম ছিদ্দিকী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ছিলেন জনাব কে এস প্রু ।
হযরত হাজী সাহেব হুজুর (রহ:) বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা বোর্ড (বেফাকুল মাদারিস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি তিনি প্রতিষ্ঠা করার পর থেকে বান্দরবানের সর্বস্তরে অবদান রেখে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সহিত দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা ৪০০ (চারশত) এর অধিক আবাসিক ও অনাবাসিক ছাত্র/ছাত্রীকে বিভিন্ন বিভাগে পাঠ দান করছে । প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা বোর্ড (বেফাকুল মাদারিস) এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় ।

















