প্রতিনিধি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:১১:৪০ প্রিন্ট সংস্করণ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রামঃ

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার শেষ সময়ে কুড়িগ্রাম – ৩ আসনের গোড়াই রঘুরায় এলাকায় একটি বিশেষ দলের প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার সকালে ওই এলাকায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার হালচাল জানতে গেলে এলাকার অনেকে জানায়, গত দুদিন থেকে অত্র এলাকায় একটি বিশেষ দলের প্রার্থীর সমর্থনে এলাকার মৃত: আব্দুস সামাদ মাষ্টারের পুত্র মাহবুবুর রহমান মজনু এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত মৃত: রহিমল হোসেনের পুত্র মো: আজিজ মিয়া (ইদো) এই অপকর্ম চালাচ্ছে। এতে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, মজনু নামের কথিত ওই যুবক এলাকায় মূলতঃ বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও গত ৫ আগষ্ট পরবর্তী রংপুরে আওয়ামীলীগের ক্যাডার হিসেবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দায়েরকৃত মামলা নং- ১৭/৮০ তাং- ১৪/৩/২০২৫ ইং এর আসামি হিসেবে বেশ কয়েক মাস জেল খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় অপর একটি বিশেষ দলের প্রার্থীর পক্ষে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে।
এলাকাবাসীরা এও জানান, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনিষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। যা আমরা হতে দেব না। অভিযোগকারীরা অপর আরও একটি অভিযোগ করে বলেন, গত সপ্তাহে স্থানীয় মসজিদের ভিতরে ওই বিশেষ দলের প্রার্থীর ছবিযুক্ত একটি ব্যানার লাগানো দেখে এক মুছাল্লি এটা নিরবাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন এছাড়া আমি শুনেছি মসজিদের ভিতরে কোন ছবি থাকলে নামাজ হয় না। তাহলে প্রার্থীর ছবি থাকলো কেন- এমন প্রশ্ন করায় ওই মুছল্লিকে বেধরক মারপিট করা হয়েছে। যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্ট হয়েছে বলে তারা জানান।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে জানান, কথিত মজনু এবং আজিজ মিয়া ওই বিশেষ দলের প্রার্থীর পক্ষে গোড়াইহাট বাজারে সাধারণ ভোটারদের চা- সিগারেট ও হোটেল বিল পরিশোধ এবং তাদের বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে ওই এলাকার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির নেতা আবেদ আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অনেক কিছুই শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি তিনি বিএনপির জেলা নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
অভিযুক্ত মজনু ওই এলাকার বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবী করলেও কুড়িগ্রাম শহরের বিএনপির অনেকে জানায়,
বিএনপি দলের কোন নেতা- কর্মী কোন অপর দলের লেজুড়বৃত্তি করলে তার বিরুদ্ধে দল থেকে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তারা এও অভিযোগ করেন ইতোপূর্বে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুড়িগ্রাম -২ আসনের বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের সঙ্গে ছবি তুলে সেই ছবিকে ব্যবহার করে অভিযুক্ত মজনু বিভিন্ন অপকর্ম করছে কীনা বিষয়টি প্রমাণিত হলে দল নিশ্চয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
অপরদিকে কথিত মজনু ও আজিজ মিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘনের এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সম্পর্কে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, বিষয়টি তিনি দেখবেন, এধরণের কোন অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।

















