প্রতিনিধি ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৪৪:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
সোহেল খান দূর্জয় নেত্রকোনা :

নেত্রকোনা পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভার প্রতিটি অলিগলিতে গণভোটের ঝুলছে ব্যানার, ফেস্টুন, ও পৌরসভার প্রতিটি নাগরিকের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গণভোটের লিফলেট,তাতে লেখা রয়েছে ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানে গণভোট নিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।তাতে লেখা রয়েছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী পাবেন আর ‘না’ ভোট দিলে কী পাবেন না—শিরোনামে রয়েছে গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন দেশের চাবি আপনার হাতে।
ব্যানারে আরও লেখা রয়েছে ‘আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান যেখানে…’—এই জিজ্ঞাসার বিপরীতে রাখা হয়েছে ১১টি সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে; সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে; বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবে; যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না; সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে; ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে; দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে; আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন—অবাধে ইন্টারনেট সেবা প্রাপ্তির অধিকার) বাড়বে; দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে। যেখানে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ওপরের সবকিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবি এবার আপনারই হাতে।
গণভোটের বিষয়ে প্রচারের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ সেল খোলা হয়েছে। প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজকে।সারাদেশের ন্যায় এরেই ধারাবাহিকতায় এদিকে নেত্রকোনায় পৌরসভার উদ্যোগে গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, পৌরসভা ও নেত্রকোনা শহরাঞ্চলের জনবহুল জায়গাগুলোতে ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী নেত্রকোনা পৌর শহরের প্রতিটি অলিগলিতে টানানো হয়েছে গণভোটের বিলবোর্ড, পৌরসভার পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গণভোটের লিফলেট।
গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার বলেন, নেত্রকোনা পৌর শহরের প্রবেশপথসহ পৌরসভার জনবহুল স্থানে ডিজিটাল ও স্থির বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করা হচ্ছে,পৌরসভার পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গণভোট সম্পর্কিত লিফলেট, এটা সরকারি ভাবে নির্দেশনা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার প্রতিটি মসজিদের ইমাম ও অন্য ধর্মের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে গণভোটের বিষয়বস্তু স্পষ্ট করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,পৌরসভার পক্ষ থেকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, যেন তা জনগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করা যায়।লিফলেট ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের লোগো, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত গণভোটের ব্যালট এবং গণভোট সম্পর্কিত লিফলেট যথাসম্ভব জনবহুল স্থানে প্রচার করা হচ্ছে। পৌরসভার সক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ প্রচার করা হচ্ছে।তিনি গণভোটের বিষয়ে,জেলা তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক অধিদপ্তর এবং জেলা সংস্কৃতিবিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত কনটেন্ট যত বেশিসংখ্যক স্থানে যতবার সম্ভব প্রচারের অনুরোধ করেন।

















